‘অনিশ্চিত’ বিশ্ব পরিস্থিতিতেও রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চান পুতিন-শি। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া ও চীন তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বৈঠক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সোমবারের বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও বেইজিং ও মস্কোর সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের সামনে আরও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
পুতিনও শির বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা সব ক্ষেত্রেই সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
গত মে মাসের পর এটি দুই নেতার প্রথম বৈঠক। এমন এক সময়ে তাদের এই সাক্ষাৎ হলো, যখন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে পঞ্চম বছরে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধও ছয় মাস অতিক্রম করেছে। ফলে এবারের এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
দুই দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে এসসিও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে। সম্মেলনে এক ডজনের বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সংলাপ অংশীদার হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্রমেই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো বেইজিংকে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তবে চীন বরাবরই রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন ও শির আলোচনায় মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্কই গুরুত্ব পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি কেবল সংক্ষেপে আলোচনায় এসেছে।
এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন পুতিন। মোদি জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারত কাজ করতে প্রস্তুত। জবাবে পুতিন বলেন, মস্কো সংঘাতের সমাধানের পথেই এগোচ্ছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন এবং পুতিনের সঙ্গে তার পৃথক বৈঠকের কথা রয়েছে। রাশিয়া ও ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাড়িয়েছে তারা।
এসসিও বর্তমানে ১০ সদস্যরাষ্ট্রের জোট। এর সঙ্গে রয়েছে ১৫টি সংলাপ অংশীদার ও দুটি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র। জোটটি বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও সদস্যদের মধ্যে নানা মতপার্থক্য রয়েছে।
তবু ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে পুতিন ও শির বৈঠক আবারও ইঙ্গিত দিল, পশ্চিমা প্রভাবের বিপরীতে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গঠনের প্রশ্নে মস্কো ও বেইজিং তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে চায়।









