জিন্নাহ ছাড়া বাংলাদেশও কল্পনাতীত ছিল; বলেছেন মারুফ কামাল। সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী ও কবি মারুফ কামাল খান সোহেল বলেছেন, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছাড়া পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। আর পাকিস্তান সৃষ্টি না হলে আজকের বাংলাদেশ রাষ্ট্রও হয়তো কল্পনাই থেকে যেত।
বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের এনআরসি সেন্টারে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘দি আর্কিটেক্ট রিমেম্বার্ড’ শীর্ষক স্মরণ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মারুফ কামাল খান বলেন, উপমহাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসের একটি বড় অংশের উত্তরাধিকার বহন করছি আমরা। আমরা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নই। হঠাৎ করে গড়ে ওঠা কোনো জনপদ বা জাতিগোষ্ঠীও নই। আমাদের পূর্বপুরুষেরা একসময় জিন্নাহর নেতৃত্বে আন্দোলন করে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। সে সময় তারাই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ভালোবেসে ‘কায়েদে আজম’ বা মহান নেতা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
তিনি বলেন, উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে যে প্রচলিত বয়ান তৈরি হয়েছে, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উপনিবেশবিরোধী নেতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর স্মরণে তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
দলের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আকরাম আলী, ডা. ফরিদ উদ্দীন, প্রকৌশলী এ কে এম রেজাউল করিম ও অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল চৌধুরীসহ অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ।
অনুষ্ঠানে জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক তামিমা জোবায়দা ‘রিক্লেইমিং জিন্নাহ’ শীর্ষক একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। এতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তামিমা জোবায়দা বলেন, জিন্নাহ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নীতি গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর তরুণদের মধ্যে মুসলিম জাতীয়তা, গণতান্ত্রিক মুসলিম রাষ্ট্র ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ কারণে উপনিবেশবিরোধী মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে জিন্নাহ তরুণদের কাছে নতুন করে আলোচিত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের যুব মুসলিম লীগের সভাপতি মোহাম্মদ কামরান সাঈদ উসমানী। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এনআরসি সেন্টারে জিন্নাহকে নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সমাপনী দিনে বাদ জুমা জিন্নাহর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে জাতীয় তিন নেতার মাজার জিয়ারত এবং বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।









