আটলান্টায় আটকে গেল মেসির ইন্টার মায়ামি। আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেল না ইন্টার মায়ামি। শনিবার রাতে বৃষ্টির কারণে এক ঘণ্টারও বেশি সময় দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। প্রথমার্ধে দাপট দেখিয়ে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে জয় হাতছাড়া করে মায়ামি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। মায়ামি নিজেদের চেনা বল দখলের ফুটবল খেলতে চাইলেও আটলান্টার আগ্রাসী প্রেসিংয়ে শুরুতে স্বস্তিতে খেলতে পারেনি। বরং স্বাগতিকরা বেশ কিছু সময় বল নিজেদের দখলে রেখে মায়ামিকে রক্ষণে ব্যস্ত রাখে।
তবে ১৫ মিনিটের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে মায়ামি। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে উঁচুতে উঠে হেডে বল জালে পাঠান কাসেমিরো। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।
অবশ্য বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে পারেনি মায়ামি। গোলরক্ষকের সেভের পর বক্সে বল ছিটকে এলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় ফিরতি শটে গোল করেন মিগেল আলমিরন। ১-১ সমতায় ফেরে আটলান্টা।
এরপর মেসির ফ্রি-কিক থেকে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মায়ামি। আর্জেন্টাইন তারকার বাঁকানো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে বিরতির ঠিক আগে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় মায়ামি। পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের মধ্যে তেলাসকো সেগোভিয়ার নিখুঁত পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন লুইস সুয়ারেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নিজেদের লিড ধরে রাখলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আটলান্টা। মায়ামির রক্ষণকে চাপের মধ্যে ফেলতে থাকে তারা। একবার গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন ফ্রিসিও কাইসেদো।
এরপর ভিডিও রিভিউয়ের পর আটলান্টাকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। বক্সের মধ্যে কাসেমিরোর ফাউলের শিকার হন আলমিরন। তবে তাঁর নেওয়া পেনাল্টি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মায়ামির গোলরক্ষক স্ট. ক্লেয়ার।
কিন্তু আটলান্টার চাপ থামেনি। শেষ পর্যন্ত বক্সে কাইসেদোর ফাউলে আরেকটি পেনাল্টি পায় তারা। এবার আর ভুল করেননি ব্রিল এমবলো। স্পট কিক থেকে গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন তিনি।
শেষ আট মিনিটে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মায়ামি। মেসির শট দারুণভাবে ঠেকান আটলান্টার গোলরক্ষক। তাঁর নেওয়া কর্নার থেকেও বিপদ তৈরি হয়, এমনকি পরের কর্নারে বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ দিকে জার্মান বেরতেরামের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মায়ামিকে। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়ায় জয় হাতছাড়া হওয়ার হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।









