চারানির ঘূর্ণিতে ৫৫ রানে অলআউট পাকিস্তান, ভারতের সহজ জয়। নারী এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই দিল না ভারত। স্পিনার এন শ্রী চারানি ও প্রেমা রাওয়াতের ঘূর্ণিতে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। জবাবে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও ৬৮ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে ভারত।
দুবাইয়ে শনিবারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। একসময় বিনা উইকেটে ২৭ রানও তুলেছিল তারা। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ধস। মাত্র ২৯ বলের ব্যবধানে ৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ২০০তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলতে নামা দলটি ৫৫ রানেই গুটিয়ে যায়, যা তাদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে শাওয়াল জুলফিকারই কেবল কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ১৪ বলে ১৪ রান করেন তিনি। ওপেনার দুজন ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। রান তোলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বড় সমস্যা ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ডট বল খেলা। পরে চাপ কাটাতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেছেন ব্যাটাররা, যার বেশির ভাগই কাজে আসেনি।
ভারতের হয়ে শুরুতেই আঘাত হানেন চারানি। ম্যাচের প্রথম ওভারেই তিনি তুলে নেন দুটি উইকেট। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা স্বস্তিতে খেলতে পারেননি। পরে জুলফিকারকেও এলবিডব্লিউ করে ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হন চারানি।
তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন লেগস্পিনার প্রেমা রাওয়াত। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে তিন উইকেট নেন তিনি। তাঁর ২৪ বলের মধ্যে ১৯টিই ছিল ডট। পাকিস্তানের ব্যাটাররা তাঁর লাইন-লেংথের বিপক্ষে কার্যকর কোনো উত্তর খুঁজে পাননি। সাদাফ শামাসকে বোল্ড করে ইনিংসের ধস আরও বাড়িয়ে দেন রাওয়াত।
স্বল্প রান তাড়া করতে নেমেও শুরুটা স্বস্তির ছিল না ভারতের। দ্বিতীয় ওভারে পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা ফিরিয়ে দেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানাকে। শেফালি ৩ হাজার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক ছোঁয়ার পরই আউট হন। মান্ধানার আউট নিয়ে অবশ্য কিছুটা বিতর্ক ছিল। ডিআরএস না থাকায় সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার সুযোগও ছিল না।
তবে হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা আর কোনো বিপদ হতে দেননি। হারমানপ্রীত ১৮ রানে অপরাজিত থেকে জয়ের রান করেন। এই ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১৫০ ম্যাচে অধিনায়কত্বের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।
এই জয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হলো। অন্যদিকে পাকিস্তানের সামনে এখন সমীকরণ সহজ—হংকংকে হারালেই শেষ চারে ওঠার সুযোগ থাকবে। তবে ব্যাটিংয়ের এমন দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে নকআউট পর্বে বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে তাদের।









