পশ্চিম তীর ও গাজায় আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জাতিসংঘের। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় জরুরি ভিত্তিতে একটি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের দখলদারত্ব অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলবানিজ বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় আন্তর্জাতিক সুরক্ষা উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা ‘অত্যন্ত জরুরি’। তাঁর মতে, ইসরায়েলের ‘অবৈধ দখলদারত্ব’ বন্ধে তৃতীয় দেশগুলোর পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আলবানিজ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া একটি পরামর্শমূলক মতামতের কথা উল্লেখ করেন। ওই মতামতে আদালত ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলকে অবৈধ বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে অন্যান্য রাষ্ট্রের ওপর এমন কোনো সহযোগিতা বা সহায়তা না দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে, যা ওই দখলদারত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে বলে আদালত মত দেয়।
আলবানিজ প্রশ্ন তুলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘শান্তির জন্য ঐক্য’ বা Uniting for Peace প্রক্রিয়া ব্যবহার করে নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব কি না।
গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রসহ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে পরিষদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
‘Uniting for Peace’ হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে সাধারণ পরিষদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করতে পারে।
আলবানিজের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, শুধু কূটনৈতিক বিবৃতি বা রাজনৈতিক আহ্বান যথেষ্ট নয়; বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে অবশ্য বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মতপার্থক্য এবং ইসরায়েলের অবস্থানের কারণে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ নয়।
তবে আলবানিজের আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে—ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও সদস্যরাষ্ট্রগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে।









