পাতে রকমারি খাবার রাখার গুরুত্ব কী, জানুন পঞ্চব্যঞ্জনের পুষ্টিগুণ। ভাত, ডাল, শাক, সবজি, মাছ—প্রতিটি খাবারই শরীরকে দেয় আলাদা পুষ্টি; শুধু পছন্দের দুই-তিন পদ খেলে পূরণ নাও হতে পারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, শাক কিংবা চাটনি—পাতে নানা ধরনের খাবার থাকলে কেউ খুশি হন, আবার কেউ শুধু পছন্দের দুই-তিনটি পদ খেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের বৈচিত্র্য শুধু স্বাদের জন্য নয়; শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের উদ্দেশ্য শুধু পেট ভরানো নয়। শরীর সুস্থ রাখতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্য আঁশ—সবকিছুরই প্রয়োজন। তাই প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের উপাদান রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা।
কেন নানা ধরনের খাবার প্রয়োজন?
ধরা যাক, কারও পছন্দ ভাত ও মাংস। এগুলো থেকে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন পাওয়া গেলেও শরীরের প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্য আঁশ এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে নাও থাকতে পারে। তাই খাবারের সঙ্গে শাক, সবজি, ডালসহ বিভিন্ন পদ যোগ করা জরুরি।
বিশেষ করে করলা, উচ্ছে বা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিতে আলাদা আলাদা পুষ্টি উপাদান থাকে। শাক ও সবজি খাদ্য আঁশের ভালো উৎস। অন্যদিকে মাছ, মাংস ও ডিম থেকে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় প্রোটিন।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ভারসাম্য না থাকলে দীর্ঘদিনে শরীরে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
পাতে কী কী থাকা উচিত?
কার্বোহাইড্রেট
শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে কার্বোহাইড্রেট গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ডের জন্যও এটি প্রয়োজন। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের বদলে জটিল কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
লাল চাল, ওটস, কিনোয়া, বিভিন্ন ধরনের পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে।
প্রোটিন
শরীরের কোষ ও টিস্যু গঠন, ক্ষয়পূরণ এবং পেশি সুস্থ রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রয়োজন।
উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের জন্য ডাল, সয়াবিন, ছোলা ও মটর খাওয়া যেতে পারে। আর প্রাণিজ প্রোটিনের ভালো উৎস হলো ডিম, মাছ ও মুরগির মাংস।
খাদ্য আঁশ
হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্য আঁশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া ঠেকাতেও সাহায্য করে।
শাক, কাঁচা বা রান্না করা সবজি, সালাদ ও বিভিন্ন ফল খাদ্য আঁশের ভালো উৎস।
ভিটামিন ও খনিজ
শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ঠিক রাখতে ভিটামিন ও খনিজ প্রয়োজন। নানা ধরনের সবজি, শাক, মাছ ও মাংস থেকে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
এক ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন রঙ ও ধরনের সবজি খেলে ভিন্ন ভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
স্বাস্থ্যকর চর্বি
শরীরের জন্য সব ধরনের চর্বি ক্ষতিকর নয়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি প্রয়োজন।
বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ ও কিছু উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়।
পঞ্চব্যঞ্জনের আসল গুরুত্ব
পাতে পাঁচ বা তার বেশি ধরনের পদ রাখার ঐতিহ্যের পেছনে স্বাদ ও সংস্কৃতির পাশাপাশি খাবারের বৈচিত্র্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ভাতের সঙ্গে ডাল, শাক, সবজি ও মাছ বা অন্য কোনো প্রোটিনের উৎস রাখলে একই খাবারে একাধিক পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তাই শুধু পছন্দের দুই-তিনটি পদ খেয়ে পেট ভরানোর বদলে পরিমাণ ঠিক রেখে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই বেশি উপকারী। তবে খাবারের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বয়স, শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করাও জরুরি।
সূত্র: আনন্দবাজার









