প্রবাসী কার্ডে বিমান ভাড়া ও চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে বিদেশগামী কর্মীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এর কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের জুনের মধ্যে তিন ধাপে দুই লাখ প্রবাসীকে এ কার্ড দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে সব প্রবাসীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সূত্র জানায়, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হতে পারে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে জর্ডানগামী কর্মীদের প্রথমে কার্ড দেওয়া হবে। মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইগামী কর্মীরাও প্রথম ধাপে এর আওতায় আসতে পারেন।
প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে গত ১০ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংক পিএলসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংক এ কার্ড ইস্যু করবে। এর মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কার্ডটির দায়িত্ব নেবে।
থাকছে যেসব সুবিধা
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমান টিকিটে ১০ শতাংশ এবং হোটেল বুকিংয়ে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ ছাড় পাবেন। বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে খাবারে ২০ শতাংশ ছাড়, লাগেজ র্যাপিংয়ে বিশেষ সুবিধা এবং বিমানবন্দরে মিট অ্যান্ড গ্রিট ও লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা কাউন্টার, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় ৭ থেকে ১৫ শতাংশ এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্ডধারীর বিদেশে মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন ও বিমা সুবিধাও থাকবে। জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো সরকারি কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে অতিরিক্ত প্রণোদনা, রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ঋণ সুবিধা এবং সহজ ব্যাংকিং সেবাও যুক্ত থাকবে। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবাতেও অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা রয়েছে।
কারা পাবেন
বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া কর্মী এবং বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে কাজের ভিসায় বিদেশগামী ব্যক্তিরা এ কার্ড পাবেন। আবেদন করার পর সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জনতা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করবে। বিদেশে থাকা প্রবাসীরাও পরবর্তী সময়ে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশি মিশন থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রথম ধাপে ৫ হাজার, ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনে আরও দেড় লাখ প্রবাসীকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের সেবা সহজ করার পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।









