ফিফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’; অভিযোগের তীর উয়েফার দিকে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বাতিল হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব পরিকল্পনা নিয়ে আইনি বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার বিরুদ্ধে ফিফা অভিযোগ করেছে, তারা সংস্থা ও এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার অভিযান’ চালাচ্ছে।
গত সপ্তাহে উয়েফা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিফার কাছ থেকে বিভিন্ন নথি ও প্রমাণ চেয়ে আবেদন করে। সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই আবেদন করা হয়। এর আগে ফিফার বাতিল হওয়া ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনা’ এবং নিজের স্বার্থে বিশ্বকাপের মূল্য কম দেখানোর অভিযোগ তোলে উয়েফা।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নথি জমা দিয়েছে ফিফা। মাসের শেষ পর্যন্ত নথিতে প্রবেশের অনুমতি স্থগিত বা আবেদনটি খারিজ করার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
ফিফার দাবি, উয়েফার যুক্তিতে ‘মৌলিক ত্রুটি’ রয়েছে এবং আইনি ঘাটতিও আছে। তাদের ভাষ্য, উয়েফা এমন একটি বিদেশি ফৌজদারি তদন্তের সহায়তায় নথি চাচ্ছে, যা এখনো অস্তিত্বই লাভ করেনি। এমনকি সেটি শুরু করার আইনি ক্ষমতাও উয়েফার নেই।
ফিফা আরও জানিয়েছে, এফএফই ছিল কেবল একটি প্রস্তাব। অধিকাংশ সদস্য দেশের সমর্থন এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল না। ফিফার অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে উয়েফা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেটিই ফিফা ও এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহের ‘অপপ্রচার অভিযানের’ শুরু।
ফিফা আরও দাবি করেছে, উয়েফার অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য হলো ছোট দেশগুলোকে ইউরোপের বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো আর্থিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। ফিফার মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ফুটবল শক্তিশালী হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে উয়েফার বাজারক্ষমতা কমবে এবং তাদের প্রধান টুর্নামেন্টগুলোও বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।
উয়েফা এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে বিবিসি স্পোর্ট জানতে পেরেছে, উয়েফার অভ্যন্তরে মনে করা হচ্ছে, ফিফার গোপন করার মতো কিছু না থাকলে তাদের নথি প্রকাশ করা উচিত এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া উচিত।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উয়েফা ইতোমধ্যে তিনটি কনফেডারেশনের সমর্থন পাওয়া পদত্যাগের দাবির মুখে থাকা ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এফএফই প্রকল্পের প্রধান বিনিয়োগকারী হওয়ার কথা ছিল মার্কিন উদ্যোক্তা জোশুয়া কুশনারের। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার ভাই। কুশনার ও তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ইটারনাল’-এর কাছ থেকেও নথি ও সাক্ষ্য নেওয়ার অনুমতি চেয়েছে উয়েফা।
থ্রাইভ ইটারনাল ইনফান্তিনোর সঙ্গে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছিল। পরিকল্পনা ছিল ফিফার নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ অংশীদারত্ব নেওয়া। জুলাইয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
ফিফার দাবি ছিল, এফএফই বাস্তবায়িত হলে ২০২৭-৩০ চক্রে প্রতিটি জাতীয় ফুটবল সংস্থার জন্য বরাদ্দ ৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারত।
রোববার কুশনারও এফএফই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটির উদ্দেশ্যের প্রতি তাঁদের সমর্থন থাকলেও বৈশ্বিক ফুটবলের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং এর পরিণতি সম্পর্কে তাঁরা যথেষ্ট ধারণা করতে পারেননি।
উয়েফা মার্কিন অর্থনীতিবিদ গ্রেগ ম্যাফেইয়ের কাছ থেকেও নথি চেয়েছে। চুক্তির বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শক ছিলেন।
উয়েফার দাবি, কুশনার ও ম্যাফেই ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথম এফএফই ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন। ইনফান্তিনোও চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার প্রায় এক বছর আগে থেকেই কুশনারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
উয়েফার আইনজীবীদের আরও অভিযোগ, বিশ্বকাপের মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রায় ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, এই মূল্য কোনো উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়নি। কোনো স্বাধীন মূল্যায়নকারীর মাধ্যমেও তা যাচাই করা হয়নি। উয়েফার অভিযোগ, পরিকল্পনাটি নিয়ে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও যথাযথ পরামর্শ করেননি ইনফান্তিনো।









