আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
এক দশক আগেও চীনের রোবট প্রতিযোগিতাগুলো ছিল অনেকটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর একাডেমিক আয়োজন। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন এসব প্রতিযোগিতা হয়ে উঠেছে চীনের রোবট প্রযুক্তি, শিল্প সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা প্রদর্শনের বড় মঞ্চ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস চীনের এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রোবটের দৌড়, ফুটবল, নাচের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রের মতো জটিল কাজের সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এবারের আয়োজনে রোবটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা এগিয়েছে, তারও চমকপ্রদ উদাহরণ দেখা গেছে। রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের Tiangong Ultra নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবট ১০০ মিটার দৌড়ে ৯.৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্বরেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আরেক রোবট Lightning দৌড়টি শেষ করে ৯.৪৭ সেকেন্ডে।
২০২৬ সালের এই রোবট গেমসে ১৬টি দেশের ৬৬৬টি দলের ২ হাজার ৫৬টি রোবট অংশ নিয়েছে। মোট ৫১টি ইভেন্টে রোবটদের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।
শুধু প্রদর্শনী নয়, বাস্তব কাজেও নজর
চীনের রোবট শিল্প এখন শুধু দর্শকদের চমকে দেওয়ার প্রযুক্তি প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। কারখানা, লজিস্টিকস, পণ্য বাছাই, ইলেকট্রনিকস সংযোজন এবং ঘরোয়া কাজে রোবটের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বেইজিংয়ের ওয়ার্ল্ড রোবট কনফারেন্সেও ৩০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ২ হাজারের বেশি রোবট প্রদর্শন করেছে। সেখানে ১৫০টির বেশি নতুন পণ্য উন্মোচন করা হয়।
তবে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—রোবটগুলো বাস্তবে কতটা অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হতে পারে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং সীমিত বাণিজ্যিক ব্যবহার এখনো বড় বাধা। ফলে ভবিষ্যতে শুধু দ্রুত দৌড়ানো বা জটিল কসরত দেখানো নয়, মানুষের বাস্তব কাজ কতটা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে—সেটিই হয়ে উঠতে পারে রোবট শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিষয়।
চীনের জন্য অবশ্য রোবট প্রযুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক খাত নয়; এটি দেশটির কৌশলগত শিল্পনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি নীতি, বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয়ে দেশটি হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স









