
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর মনোহরদীতে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার অভিযোগে তার ৭০ বছর বয়সী বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়াল উদ্ধারের দাবি করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কীর্তিবাসদী গ্রামের নিজ বাড়ির দক্ষিণ ভিটির গোয়ালঘরে আকাশ মিয়া (২৪) গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। পরে আকাশের মা ফিরোজা খাতুন বাড়িতে ফিরে গোয়ালঘর থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আকাশের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের বাবা আতাউর রহমান মিস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে আকাশ মাদকাসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। সম্প্রতি আতাউর রহমান তার ছোট মেয়েকে কিছু টাকা ধার দেন। ওই টাকা ফেরত আনার বিষয়কে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আকাশ তার বাবা ও বোনকে নিয়ে অশালীন কথাবার্তা বলেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন আতাউর রহমান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘুমন্ত অবস্থায় আকাশকে নিজ ঘরের কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তার বাবা আতাউর রহমান।
তদন্তের সময় ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আতাউর রহমান মিস্ত্রী বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আতাউর রহমান মিস্ত্রী (৭০) কীর্তিবাসদী গ্রামের মৃত ছাদত আলীর ছেলে। তিনি দৌলতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় মনোহরদী থানায় মামলা নম্বর-৩০, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬; মামলা করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায়।
সূত্র: নরসিংদী জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল, ২৩ আগস্ট ২০২৬।
নোট: গ্রেপ্তার ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তিনি অভিযুক্ত/আসামি হিসেবে বিবেচিত।









