রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসি ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফার্নান্দেজ। যৌথ ব্রিটিশ ট্রান্সফার রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসি ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনে মঙ্গলবার ২৫ বছর বয়সী এই তারকার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে সিটি।
এনজোকে দলে ভেড়ানোর মধ্য দিয়ে এক ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খরচের রেকর্ড গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই গ্রীষ্মে তাদের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ডে। গত গ্রীষ্মে লিভারপুলের ৪১৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচের রেকর্ড ছিল আগের সর্বোচ্চ। তবে খেলোয়াড় বিক্রি করে এবার প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডও আয় করেছে সিটি।
২০২৩ সালে বেনফিকা থেকে তখনকার ব্রিটিশ রেকর্ড ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন এনজো। এবার তাঁর দলবদলের মূল্য ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যা গত গ্রীষ্মে আলেক্সান্ডার ইসাককে কিনতে লিভারপুলের দেওয়া অর্থের সমান।
গত ২৪ ঘণ্টা ধরে এনজোকে নিয়ে আলোচনা চালায় চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার দুই ক্লাবের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়। এর আগে গ্রীষ্মের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার আগ্রহও ছিল এনজোর। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং ফুলহামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময় চেলসি সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয়েছিল তাঁকে।
রোববার ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির ৪-৩ গোলের জয় এবং তার তিন দিন আগে লুটনের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এনজো নিজেই দল থেকে বাইরে থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
চেলসি সমর্থকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এনজো লিখেছিলেন, ‘তোমাদের জানাতে চাই, গত কয়েক দিন আমার জন্য সহজ ছিল না। সত্যি বলতে, আমি ভালো অবস্থায় ছিলাম না।’
তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘চেলসিতে আসার পর থেকেই আমি এই ক্লাবের ইতিহাসের প্রাপ্য সব ট্রফি জেতার নেশায় ছিলাম। আমরা কষ্ট পেয়েছি, কেঁদেছি, অনেক সময় রাগ করেছি। তবে শিরোপা জিতেছি এবং অবিস্মরণীয় সব জয়ও উদ্যাপন করেছি।’
চেলসি ছাড়ার সিদ্ধান্ত কঠিন ছিল উল্লেখ করে এনজো জানান, ক্লাবটি সব সময় তাঁর হৃদয়ে থাকবে। সমর্থকদের জায়গায় থাকলে হয়তো তিনিও একইভাবে বিষয়টি দেখতেন।
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকার অধীনে চেলসিতেও খেলেছেন এনজো। এবার একাধিক মিডফিল্ডার হারানোর পর তাঁকে আবারও দলে পেতে আগ্রহী ছিলেন মারেসকা।
সিটিতে যোগ দিয়ে এনজো বলেছেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। সিটিকে ট্রফি জেতানো অব্যাহত রাখতে সাহায্য করার চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত। এটি সাফল্যের জন্য তৈরি একটি ক্লাব।’
এর আগে জুলাইয়ে নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে কিনে নিজেদের ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙেছিল সিটি। এনজোকে নিয়ে এই গ্রীষ্মে প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ট্রান্সফার ফিতে দলবদল হলো।









