সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী এশিয়া কাপে দুর্দান্ত বোলিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১০৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ৯ উইকেটে ৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশার। একপর্যায়ে মাত্র ৫৫ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। সেখান থেকে অভিজ্ঞ শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বাংলাদেশকে লড়াইয়ের মতো স্কোর এনে দেয়। ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে সহজ জয় পায় বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে একাদশে ফিরেই ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শারমিন। রিতু মনির জায়গায় দলে সুযোগ পান তিনি। বাংলাদেশ ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন শারমিন। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২৩ রানে আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫৫ রানে ৬ উইকেট।
সেখান থেকে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করেন শারমিন। শুরুতে ১৩ বলে ১৩ রান করে সময় নেন তিনি। পরে ১৩তম ওভারের পর আক্রমণাত্মক হন। ইন্ধুজা নন্দকুমারের বলে কাভার ড্রাইভে চার মেরে গতি বাড়ান। এরপর এশা ওঝার ওভারে টানা দুটি বাউন্ডারি মারেন।
তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন নাহিদা আক্তার। সপ্তম উইকেটে দুজন যোগ করেন ৪২ রান। এই জুটিই বাংলাদেশকে ১০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়। নাহিদা করেন ১৬ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের বড় কারণ ছিলেন আমিরাতের অফস্পিনার সুরক্ষা কোট্টে। ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। শুরুতে ডিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারিকে ফিরিয়ে দেন কোট্টে। পরে নিগার সুলতানাকেও আউট করেন তিনি। নিজের ২৪ বলের ১৬টিই ডট বল করেন এই স্পিনার।
তবে ১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আমিরাত। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের মাত্র চতুর্থ বলেই অধিনায়ক এশা ওঝাকে ইনসুইংয়ে বোল্ড করেন তিনি। এরপর সামাইরা ধারনিধারকার ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানান।
তিন ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মারুফা। পাওয়ারপ্লে শেষে আমিরাতের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৫ রান।
অন্য প্রান্তে স্পিন দিয়ে চাপ ধরে রাখেন সুলতানা খাতুন। ১০ ওভার শেষে আমিরাতের রান ছিল ৩ উইকেটে ৩৪। পরের ওভারেই থির্থা সতীশের উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে বাংলাদেশ।
এরপর নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান মিলে আমিরাতের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন। নাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ১৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নেন ২ উইকেট। রাবেয়া নেন ৩ উইকেট। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে রান তুলতে পারেনি আমিরাত।
পুরো ইনিংসে ৭০টি ডট বল খেলে আমিরাত। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৬৯ রানেই থামে তাদের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান নাহিদা আক্তার। ব্যাট হাতে ১৬ রানের পর বল হাতে ১৮ রানে নেন ২ উইকেট।
এই জয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।









