সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের’ তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সাবেক আল-নুসরা ফ্রন্ট, অর্থাৎ হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর ওপর থাকা ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে মার্কিন তালিকাভুক্তিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দামেস্কে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটন। গত মাসেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। এবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।
দীর্ঘদিন ধরে তালিকায় থাকার কারণে সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ ছিল। এর ফলে মার্কিন আর্থিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছিল দেশটি। তালিকা থেকে বাদ পড়ায় সিরিয়ার অর্থনীতি ও বিদেশি বিনিয়োগে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে দামেস্ক।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ায় নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে এবং দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। তাঁর মতে, এটি সিরিয়াকে নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বস্তি দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিল। এরপর গত জুলাইয়ে দেশটিকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ওয়াশিংটন বলেছিল, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
তবে সিদ্ধান্তটির রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। একসময় আল-শারার নেতৃত্বাধীন এইচটিএস ছিল সিরিয়ায় আল-কায়েদার আনুষ্ঠানিক শাখা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্যুৎগতির সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সংগঠনটি বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর আল-শারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয় হন। তিনি ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রাসলান এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সিরিয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে।
সিরিয়ার অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বারনিয়েহও সিদ্ধান্তটিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এতে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় সিরিয়ার সংযুক্তি, বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক দূত টম ব্যারাক বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার বিচ্ছিন্নতা থেকে অংশীদারত্বের পথে যাত্রায় একটি ‘নির্ণায়ক পদক্ষেপ’। তিনি সিরিয়াকে এখন বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবেও তুলে ধরেছেন।









