হরমুজে প্রতিরাতে ৩০ জাহাজ পার করছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে ‘কঠোর জবাবের’ হুমকি ট্রাম্পের

হরমুজে প্রতিরাতে ৩০ জাহাজ পার করছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে ‘কঠোর জবাবের’ হুমকি ট্রাম্পের। ইরানের ওপর আবারও কঠোর সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় প্রতিরাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পাল্টা হামলার পর নতুন করে এ হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখন ‘খুব ভালো’। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় আগের রাতে অনেক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পাল্টা হামলার জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে এবং এর জবাব আসবে।

এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। সেই প্রস্তুতি ঠেকাতেই সীমিত ও নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে।

তবে তেহরান এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। ইরানের দাবি, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এরপর ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে কোনো দেশ বা স্থানের ভূখণ্ড, আকাশসীমা কিংবা সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানো হলে সেই স্থানও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে ইরান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়েও নতুন দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভ দমনে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং এর জন্য ইরানের নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তবে এই সংখ্যার কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। এর আগে তিনি নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার পর্যন্ত বলে দাবি করেছিলেন।

অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তেহরান এসব সহিংসতার জন্য ইসরায়েল-সমর্থিত ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করেছে।

চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে নতুন এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় এমন একটি সমাধান প্রয়োজন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই সম্মানজনকভাবে উত্তেজনা থেকে সরে আসতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ