আন্তর্জাতিক ডেস্ক:হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল বা স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার আইআরজিসি জানায়, একটি বিশেষ গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তারা যানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পরে এর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আটক করা যানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Anduril Industries-এর তৈরি Dive-LD, যা একটি বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV)। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই যানটি মানুষ ছাড়াই পানির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের মিশন পরিচালনা করতে পারে।
Dive-LD-এর সর্বোচ্চ কার্যক্ষম গভীরতা প্রায় ৬,০০০ মিটার এবং এটি মিশনের ধরন অনুযায়ী ১০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানির নিচে কাজ করতে পারে। এর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ও মিশন সরঞ্জাম যুক্ত করা যায়।
এই ধরনের যান সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং সমুদ্রের নিচে থাকা কেবল ও পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো পরিদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যায়।
তবে ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্র Reuters-কে জানিয়েছে, পানির নিচের একটি মার্কিন ড্রোন হারানোর ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু সেটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে পড়েছিল এবং আঞ্চলিক পানিসীমা জরিপের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন পক্ষের দাবি, এটি একটি পুরোনো মডেল ছিল এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার/রাডার ব্যবস্থা ছিল না।
অন্যদিকে, Anduril জানিয়েছে, Dive-LD এমন একটি “attritable” autonomous system—অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি, যেখানে প্রয়োজনে একটি যান হারানোর সম্ভাবনাও নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর মূল্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের “Ghost Sub” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, Reuters-ভিত্তিক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে Dive-LD-এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছে। ফলে ৩০ মিলিয়ন ডলারের মূল্য দাবিটি নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হয়নি।
২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে Dive-LD সরবরাহ শুরু হয়। ফলে ইরানের হাতে এমন একটি মার্কিন স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার সিস্টেম যাওয়ার ঘটনা প্রযুক্তিগত ও সামরিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আটক করা যানটির ভেতরে কোনো শ্রেণিবদ্ধ প্রযুক্তি বা সংবেদনশীল তথ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। ফলে মার্কিন মানববিহীন সামরিক প্রযুক্তি ইরানের হাতে যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সংঘাতকে আরও নতুন মাত্রা দিতে পারে।









