হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা পুনর্গঠন নয়: কুশনার

হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা পুনর্গঠন নয়। এমনটা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। তাঁর এই বক্তব্যে গাজা যুদ্ধের অবসান ও পুনর্গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুশনার বলেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেই পুনর্গঠন শুরু করা হবে না। তাঁর যুক্তি, বিপুল অর্থ ব্যয় করে পুনর্গঠন করার পর সেটি আবার কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া বা নতুন করে ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া হবে না।

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত রোডম্যাপে হামাসের অস্ত্র ত্যাগের পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজায় হামলা বন্ধের বিষয়ও রয়েছে। হামাস এ প্রক্রিয়ায় নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল চলতি মাসের শুরুতে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। ইসরায়েলের অবস্থান, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না।

কুশনারও সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সীমিত করা হবে না।

তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে। সোমবার ট্রাম্প গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে এবং ইসরায়েলিদের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়।

এদিকে গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। তাদের হিসাবে, গত বছর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩৯৯-এ পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কুশনার সম্প্রতি হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিরল বৈঠক করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আলোচনা ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। তবে হামাসের কথার চেয়ে তাদের কর্মকাণ্ড দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে তাদের মূল্যায়ন করবে।

কুশনারের দাবি, হামাস আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় অস্ত্র ও সুড়ঙ্গ হস্তান্তর করলে ইসরায়েলের জন্য এটি বড় নিরাপত্তা অর্জন হবে। আর হামাস প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে তাদের শান্তির প্রতি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এবং তখন ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সমর্থন বাড়তে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ