অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বিশ্ব টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলকে হারানোর পর এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্ত বলেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। সামনে আমরা বিশেষ কিছু করতে চাই।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা ১০টি উইকেটই নিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পথে হাসান মাহমুদ একাই নেন ৬ উইকেট। পেসারদের এমন পারফরম্যান্সের বিশেষ প্রশংসা করেছেন শান্ত।
‘বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো পেসারদের উত্থান। সাধারণত পাঁচ-ছয় বছর আগে পেসাররা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাইত না, কারণ আমরা পর্যাপ্ত টেস্ট খেলতাম না। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে আমরা অনেক টেস্ট খেলছি এবং ছেলেরা টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে।’
শান্ত আরও বলেন, ‘এখন তারা খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায়, কারণ তারা বিশ্বমানের হতে চায়। এখন তাদের মানসিকতাই এমন। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়েরা তাদের আরও বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করতে অনেক সাহায্য করেছেন।’
বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসানও। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করে দলের লিড বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তানজিদের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, ‘সে দারুণ সম্ভাবনাময়। সাদা বলের ক্রিকেটে সে সব সময় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। কিন্তু এই টেস্টে সে নিজের চরিত্র দেখিয়েছে। খুব শান্ত ছিল এবং বলের মেরিট অনুযায়ী খেলেছে।’
ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নেওয়া এই পেসার বলেন, ‘ম্যাচের আগে প্রতিটি অনুশীলন সেশনে আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কী হবে, সেটা না ভেবে নিজেদের প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস রাখার দিকে মনোযোগ দিয়েছি। যা-ই ঘটুক, আমাদের পাঁচ দিন খেলতে হবে এবং এরপর ফল আসবে।’
চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে থামিয়ে দেন তিনি। মিরাজ বলেন, ‘এটি আমাদের দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স। আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আমাদের চরিত্র ফুটে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পরও আমাদের বিশ্বাস ছিল। আমরা ভেবেছিলাম, এই কন্ডিশনে এটি আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আমরা এখানে এসেছি। তারা বিশ্বমানের দল। তাদের হারাতে পারলে আমাদের দেশ ও ক্রিকেটের জন্য দারুণ হবে।’
ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমাদের সেই প্রমাণ আছে, কিন্তু ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আগের মতোই পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, সেশন ধরে খেলতে হবে। বোলাররা নিজেদের কাজ করবে, ব্যাটসম্যানদেরও অবদান রাখতে হবে। বিশেষ করে লোয়ার মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার যেভাবে রান করেছে, ম্যাকেতেও আমাদের সেভাবেই খেলতে হবে।’









