ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সহায়ক হতে পারে ৩ পানীয়। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গাঁটে ব্যথা, ফোলা ও প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কিছু পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক
গাঁটে ব্যথা, গোড়ালি কিংবা শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া—ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে অস্থিসন্ধিতে ছোট ছোট স্ফটিক জমে প্রদাহ ও ব্যথা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয়ও খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে।
লাউ-তুলসীর পানীয়
লাউয়ে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তুলসীতেও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। তবে এই পানীয় ইউরিক অ্যাসিড কমানোর নিশ্চিত চিকিৎসা—এমন প্রমাণ নেই।
এক কাপ কুচি করা লাউয়ের সঙ্গে ৬-৭টি তুলসীপাতা মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। এরপর ছেঁকে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া ও বিট লবণ মিশিয়ে পান করা যায়। তবে কাঁচা লাউয়ের রস খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা উচিত। তিতা স্বাদের লাউ ব্যবহার করা যাবে না।
সজনে-লেবুর শরবত
সজনেপাতায় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অন্যদিকে লেবুতে ভিটামিন সি থাকে। এগুলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে সজনে বা লেবুর শরবত সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড কমিয়ে দেয়—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আধা চা-চামচ সজনেপাতা গুঁড়া এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে মিশিয়ে তাতে লেবুর রস যোগ করতে পারেন। খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পর পান করাই ভালো। যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
আমলকি-হলুদের পানীয়
আমলকিতে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। হলুদের কারকিউমিন নিয়েও প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। ফলে পরিমিত পরিমাণে এই উপাদানগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে ৩০ মিলিলিটার আমলকির রস, আধা চা-চামচ হলুদগুঁড়া এবং এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করা যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো পানীয়ই ইউরিক অ্যাসিড কমানোর চিকিৎসার বিকল্প নয়। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে বা বারবার গাঁটে তীব্র ব্যথা ও ফোলা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ওষুধের পাশাপাশি খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারেন।









