ভাত-ঘি খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব? ৩ মাসে ২২ কেজি কমানোর ৯ কৌশল জানালেন পুষ্টিবিদ। কঠোর ডায়েট করেননি। উপোসও থাকেননি। এরপরও তিন মাসে প্রায় ২২ কেজি ওজন কমিয়েছেন পুষ্টিবিদ নেহা। কীভাবে সম্ভব হলো, তা জানিয়েছেন তিনি।
ওজন কমানোর জন্য কঠোর কোনো ডায়েট অনুসরণ করেননি পুষ্টিবিদ নেহা। এমনকি দিনের পর দিন না খেয়েও থাকেননি। এরপরও তিন মাসে প্রায় ২২ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি। তাঁর খাদ্যতালিকায় ভাত, ঘি ও পছন্দের খাবারও ছিল। নেহার দাবি, জীবনযাপনে কয়েকটি ছোট পরিবর্তন এনে তিনি এই ফল পেয়েছেন। তাঁর অনুসরণ করা এমন ৯টি অভ্যাস তুলে ধরা হলো।
সকালে পানীয়
ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে একটি পানীয় খেতেন নেহা। তাঁর মতে, এতে হজমে সহায়তা করতে পারে। সকালে হালকা গরম পানিতে সামান্য লেবুর রস ও আধা চা-চামচ জিরার গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়া যায়। এ ছাড়া মেথি বা মৌরি ভেজানো পানিও পান করা যেতে পারে।
দিনে তিনবার খাবার
বারবার খাবার খাওয়ার পরিবর্তে দিনে তিনবার পরিপূর্ণ খাবার খেতেন নেহা। মাঝেমধ্যে অপ্রয়োজনীয় নাশতা বা অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলতেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট সময়ে পরিমাণমতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে সুষম খাবার
প্যাকেটজাত খাবার, চিপস ও বিস্কুটের পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি সুষম খাবারকে গুরুত্ব দিতেন তিনি। তাঁর নিয়মিত খাবারের তালিকায় ভাত, ডাল, সবজি, মাছ বা মাংস থাকত। ভাতের সঙ্গে পরিমাণমতো ঘিও খেতেন।
স্বাস্থ্যকর চর্বি
ওজন কমাতে সব ধরনের চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন নেহা। পরিমিত পরিমাণে ঘি, বাদাম ও তিলের মতো খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতেন তিনি। এসব খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগানোর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।
টক দই ও অন্যান্য ফারমেন্টেড খাবার
হজমের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নিয়মিত টক দই ও আচার খেতেন নেহা। টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। চাইলে এক বাটি টক দইয়ের সঙ্গে সামান্য বিট লবণ ও ভাজা জিরার গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
খাবারের পর হাঁটা
ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই বসে বা শুয়ে না পড়ে অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেছিলেন নেহা। খাবারের পর হালকা হাঁটা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
৮০/২০ নিয়ম
সপ্তাহজুড়ে কঠোর ডায়েট করে একদিন বেশি পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার পরিবর্তে ৮০/২০ নিয়ম অনুসরণ করতেন নেহা। অর্থাৎ, খাদ্যতালিকার প্রায় ৮০ শতাংশ পুষ্টিকর খাবার এবং বাকি ২০ শতাংশ নিজের পছন্দের খাবারের জন্য রাখতেন। এতে পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়েও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
ভারী খাবার বা মিষ্টি খাওয়ার আগে পানিতে অল্প অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে পান করতেন নেহা। তবে এটি ওজন কমানোর কোনো নিশ্চিত উপায় নয়। নিয়মিত গ্রহণের আগে ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।
প্রদাহ কমাতে পুষ্টিকর খাবার
নেহার খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ওমেগা-৩, ভিটামিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। শাকসবজি, ফল, মাছ, ডিমসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার রাখতেন তিনি।
ভিটামিন এ-এর উৎস হিসেবে পেঁপে, আম ও ডিমের কুসুম খাওয়া যায়। আমলকি, কমলা, পেয়ারা ও কাঁচা আমে ভিটামিন সি রয়েছে। শাকসবজি ও বিভিন্ন সবুজ খাবার থেকেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
তবে তিন মাসে ২২ কেজি ওজন কমানো সবার জন্য নিরাপদ বা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে ওজন কমানোর পরিকল্পনা করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।









