দ্বিতীয় রাউন্ডের ধাক্কা সামলে তৃতীয় রাউন্ডে ওসাকা, এগিয়ে সোয়াটেকও। ইউএস ওপেনে দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন জাপানের তারকা নাওমি ওসাকা। দ্বিতীয় সেটে ৫-৩ গেমে এগিয়ে থেকেও টানা চার গেম হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিলেন চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী। তবে শেষ সেটে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ক্যাটেরিনা সিনিয়াকোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-১ গেমে হারিয়েছেন তিনি।
প্রথম সেটে শুরু থেকেই দাপট দেখান ওসাকা। মাত্র ৩০ মিনিটে সেটটি জিতে নেন ২৮ বছর বয়সী এই জাপানি। দ্বিতীয় সেটেও ৪-২ গেমে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল সহজ জয়ই পেতে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এরপর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। টানা চারটি গেমে সার্ভ হারান দুজনই। নিজের সার্ভে ম্যাচ জয়ের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি ওসাকা।
দ্বিতীয় সেটে নিজের ২৯টি আনফোর্সড এররের ২০টিই করেন ওসাকা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান সিনিয়াকোভা। তবে বিরতির পর নিজেকে সামলে নেন ওসাকা। শেষ সেটে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ছয়টি গেম জিতে নেন তিনি।
২ ঘণ্টা ২ মিনিটের লড়াই শেষে জয় নিশ্চিত করে তৃতীয় রাউন্ডে বেলজিয়ামের ২৩তম বাছাই এলিস মের্টেন্সের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট কাটেন ওসাকা।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি সত্যিই কঠিন ছিল। দ্বিতীয় সেটে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় আমি নিজের ওপর একটু বেশি চাপ দিচ্ছিলাম। বিরতিতে গিয়ে নিজেকে সামলে আবার কোর্টে ফিরেছি। এরপর কোনো আফসোস না রেখে লড়াই করার চেষ্টা করেছি।’
এই জয়ের মাধ্যমে ওপেন যুগে দ্বিতীয় জাপানি নারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্লামে একক ম্যাচে ৮০ জয় পূর্ণ করেছেন ওসাকা। এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল আই সুগিয়ামার।
এ ছাড়া ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম একই বছরে চারটি গ্র্যান্ড স্লামেই তৃতীয় রাউন্ডে উঠলেন ওসাকা। গত বছর নিউইয়র্কে সেমিফাইনালেও খেলেছিলেন তিনি।
এদিকে সাবেক বিশ্বসেরা ও ছয়বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ইগা সোয়াটেক অবশ্য কোনো বিপদে পড়েননি। আর্জেন্টিনার নাদিয়া পোদোরোস্কাকে ৬-৩, ৬-২ গেমে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন পোল্যান্ডের ২৫ বছর বয়সী এই তারকা। পরের ম্যাচে তাঁর প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যারি বুজকোভা।
তবে বড় বিপদ থেকে বেঁচেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন কিজ। হাঙ্গেরির আনা বন্ডারের বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে ৫-৭, ৬-৪, ৭-৬ (১০-৫) গেমে জয় পেয়েছেন ২২তম বাছাই। শেষ সেটে একসময় দুই ব্রেক পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন কিজ। কিন্তু প্রতিপক্ষের একাধিক ডাবল ফল্টের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করেন।









