মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড। মাদক মামলায় মিশরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন খলিফার আইনজীবী।
মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। চক্রটি বিপুল পরিমাণ মাদক তৈরির কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করে তা বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত। তাদের কাছ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ। অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। তবে মামলায় নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য এবং মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২০ জন। এছাড়া তদন্তে ইলেকট্রনিক প্রমাণও পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ড এবং ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে শুনানির সময় বিচারকের প্রশ্নের জবাবে খলিফা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, মাদকদ্রব্যের সঙ্গে তার পরিচয়ই ছিল না। এমনকি মাদকবিরোধী কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে সেগুলোর সঙ্গে তাকে ছবি তোলার সময়ই প্রথম দেখেছেন বলে আদালতকে জানান।
এই মামলায় আরও নয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতজনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার রায় প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল গত মাসে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত করার আগে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়া দেশটির আইনি প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ। সেই মতামত পাওয়ার পর এক মাসের ব্যবধানে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে রায় নিশ্চিত করেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর মিশরে ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং এর মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের মামলায় মাদক পাচার ও ধর্ষণের মতো অভিযোগে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।









