ডিজেল সংকটে কৃষিকাজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় বোরো ধান ও বিভিন্ন কৃষিকার্যে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নরসিংদী জেলার ৬ টি উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে। জ্বালানি সংকটে ট্রাক্টর ব্যবহার করতে পারছেন না কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় কম ডিজেল পাওয়া ও খুচরা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
এতে করে তারা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বর্তমানে ধানের শীষ আসার গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য কৃষি কাজে জমি প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নরসিংদী সদর, পলাশ ও শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকদের সাথে কথা বললে এমন শঙ্কাই প্রকাশ করেন কৃষকরা।
আবদুল আজিজ, রহিম ও কুদ্দুস সহ একাধিক কৃষক বলেন, ‘ডিজেলের অভাবে আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। ধানখেতে পানি দিতে পারছি না, অন্যান্য কৃষি ফসলও বুনতে পারছি না। পাম্প কিংবা দোকান কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না।’
সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, কৃষি কাজ ও কৃষক বাঁচাতে সহজ উপায়ে ডিজেল ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। আমাদের ফসল উৎপাদনের জন্য তেলই দরকার, অন্য কিছু না। বর্তমানে এক লিটার ডিজেল ১৫০ টাকা দামে কিনতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য খুব কষ্টের হয়ে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজিজল হক বলেন, এবার নরসিংদী জেলার ৬ টি উপজেলায় মোট ৫৬৬০৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।
এসব বোরো আবাদ করতে গিয়ে ইতিমধ্যে ৮৬ হাজার লিটার ডিজেল ব্যবহৃত হয়েছে সেচ কাজে৷ কিন্তু ডিজেল সংকট অচীরেই সমাধান না হলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষিকার্য। তবে ইদানীং বৃষ্টি হওয়ায় এখনো তেমন বড় ধরণের কোনো বাধাগ্রস্ত হয়নি কৃষিকার্য।









