মুনাফার আশা খামারিদের

নরসিংদীতে ৬৫০ টাকা কেজিতে গরু বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নরসিংদীতে ৬৫০ টাকা কেজি দরে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় জোগানের পরিমাণ যথেষ্ট থাকায় কোরবানির জন্য পছন্দের গরু বেছে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসলে এ বছর ভালো মুনাফা হবে।

খামারি ও কৃষকেরা প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে লালন-পালন করা পশুগুলোকে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোদমে। ইতোমধ্যে খামার ও হাটগুলোতে শাহীওয়াল, সিন্ধি, দেশাল, ফ্রিজিয়ান, ক্রস ও ব্রাহমা জাতের গরু বেচা-কেনা চলছে।

এবার নরসিংদীর কয়েকটি খামারে নতুনভাবে চালু হয়েছে লাইভ ওয়েট বা ওজন অনুযায়ী কেজি দরে গরু বিক্রির ব্যবস্থা। এতে ক্রেতারা সরাসরি গরুর ওজন অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। খামারিদের দাবি, এই পদ্ধতিতে গরু কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা যেমন প্রতারণার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকছেন, তেমনি তুলনামূলক কম খরচে পছন্দের পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এ বছর নরসিংদীর ছয়টি উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে জেলার চাহিদা রয়েছে ৭৮ হাজার ৬৪৫টি পশু। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করায় নরসিংদীর গরুর চাহিদা শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও রয়েছে। তাছাড়া হাটের ভোগান্তি এড়িয়ে সরাসরি খামার থেকে গরু কেনা এবং ঈদের আগে বাড়িতে বিনামূল্যে ডেলিভারি সুবিধা থাকায় অনেক ক্রেতা খামারমুখী হচ্ছেন।

খামারের পরিচর্যাকারী সোহেল বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন তিন বেলা গরুকে প্রাকৃতিক দানাদার খাবার খাওয়াই। দুই বেলা গোসল করানো হয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। ক্রেতারা গরু পছন্দ করার পর ঈদের আগে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।’

খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার বড় আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন খামারে ৩৫০ কেজি থেকে ১১০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের গরু রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কেউ কেউ।

হাম্বা ফার্মের ম্যানেজার ফারুক ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমরা ২২০টি গরু প্রস্তুত করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য কাঁচা ঘাস, খই, কুড়া ও ভুসি দিয়ে এগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা ৬৫০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি করছি। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

অন্যদিকে গ্রীন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার বলেন, ‘খামারে ২০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। ৪০০ কেজির নিচের গরু ৫৫০ টাকা এবং ৫০০ কেজির বেশি গরু ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ক্রেতারা এসে গরু দেখে, বুঝে ও পছন্দ করে যান। পরে ঈদের আগে তাদের পছন্দমতো সময়ে গরু ডেলিভারি দেওয়া হয়।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, খামারিদের দেশীয় পদ্ধতিতে নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যে ক্ষতিকারক স্টেরয়েড বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ