ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনা করার তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ফিফার সিওও কেভিন লামুরের চাকরি গেল। বিষয়টি ফিফার অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
১৭ আগস্ট ফিফা জানায়, লামুরের সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে কাজের সম্পর্ক শেষ হয়েছে। ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের ই-মেইলে জানান, দুই পক্ষ সম্মানের সঙ্গে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে লামুরকে বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক সমালোচনার কথা সরাসরি উল্লেখ করেনি ফিফা।
গত মাসে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন লামুর। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির অধিকার একটি নতুন কোম্পানির হাতে দেওয়ার কথা ছিল। কোম্পানিটির ২১ শতাংশ অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল।
লামুর তখন বলেছিলেন, এফএফই ছিল ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’। তাঁর অভিযোগ ছিল, ফিফার প্রশাসনকে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, একজন সভাপতির দায়িত্ব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা; কিন্তু তখন তার বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকলেও নিজের মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
পরিকল্পনাটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে বাতিল হয়। উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এর বিরোধিতা করে। এমনকি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল উয়েফা।
এদিকে আগামী মার্চে ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইনফান্তিনো। কিন্তু এফএফই বিতর্কের পর উয়েফা ও কনকাকাফ তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের পর সোমবার ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও।
তবে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনগুলো এখনো ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে। ফলে লামুরের চাকরিচ্যুতি শুধু ফিফার অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন নয়; এটি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে চলমান ক্ষমতার লড়াইকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।









