ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘কালো ধান’ উৎপাদনে সাফল্যের সম্ভাবনা

জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে ‘কালো ধান’ বা ‘ব্ল্যাক রাইস’। জেলার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর গ্রামে কৃষক সায়মন মোল্লা দুই বিঘা জমিতে প্রাথমিকভাবে এই ধান চাষ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ ধানক্ষেতের মাঝে কালচে রঙের শীষ বাতাসে দুলছে। প্রচলিত সোনালি ধানের পাশে নতুন জাতের এ ধান এলাকাবাসীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কালো ধান চাষ করে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত দেখছেন কৃষক সায়মন।

বাসসের সাথে আলাপকালে কৃষক সায়মন মোল্লা বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে দুই বিঘা জমিতে কালো ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে কালো ধান চাষ করবো। ব্যতিক্রমী এই ধানের চাষ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। পরীক্ষামূলক এ আবাদ সফল হলে এলাকার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কালো চাল বা ব্ল্যাক রাইস বিশেষ এক ধরনের ধান। ধানের রং কালো। চালের রং গাঢ় বেগুনি থেকে কালো রঙের হয়ে থাকে। এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া এতে খাদ্য-আঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। কালো চাল দিয়ে ভাত, পায়েস, খিচুড়ি ও পিঠাসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চালে অ্যান্থোসায়ানিন বেশি থাকে। যা এক ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এতে ফাইবার অনেক বেশি থাকে। একারণে এ চালের ভাত শরীরে খুব ধীর গতিতে গ্লুকোজ তৈরি করে। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কালো চালে আমিষ, ভিটামিন, জিংক, খনিজ পদার্থসহ অন্য উপাদানগুলো সাধারণ চালের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি থাকে। তাই সাধারণ চালের চেয়ে এই চালের দামও অনেক বেশি। বাজারে কালো চাল ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

জানা যায়, দেশের কুমিল্লা, নওগাঁ, চট্টগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলায় ৫ থেকে ৭ প্রজাতির কালো ধানের চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর এ ধানের আবাদ এলাকার পরিমাণও বাড়ছে।

কৃষক সায়মন মোল্লা জানান, ছোটোবেলা থেকেই ধান চাষের প্রতি তার আগ্রহ। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান আবাদ করছেন তিনি। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখে ব্ল্যাক রাইস চাষ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর এ ধান চাষের আগ্রহ তৈরি হয়।
ি
তনি বলেন, এ মৌসুমে বীজ সংগ্রহ করেছি। প্রতি কেজি বীজ ৫০০ টাকা। পরে বীজতলা তৈরি, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করছি। এখন জমিতে ধানের শীষ বের হয়েছে।

সায়মন মোল্লা জানান,প্রতি বিঘা জমিতে ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদনের আশা আছে। পরীক্ষামূলক আবাদে ভালো ফলন হলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই ধানের আবাদ করবেন।

এই ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ রানা বলেন, ব্ল্যাক রাইস পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি বিশেষ জাতের ধান। উপজেলায় মৌসুমি ধান চাষের পাশাপাশি সীমিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধানের আবাদ করা হয়েছে। ফলন ভালো করতে কৃষক সায়মন মোল্লাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ধান থেকে তৈরি চাল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অ্যান্থোসায়ানিন রক্তনালীর প্রদাহ কমায় এবং কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। ব্ল্যাক রাইসের ফাইবার পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সূত্র: বাসস

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ