শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
নরসিংদীর শিবপুরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে সুমন মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে হাতে কাচি নিয়ে ঘাস কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। তবে সেই বের হওয়াই যে তার শেষ বের হওয়া হবে, তা ভাবতে পারেনি পরিবার।
সুমন মিয়া উপজেলার তেলিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে। তিনি গরু পালন ও দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তার ঘরে রয়েছে ছোট ছোট চার সন্তান। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও গরুর জন্য ঘাস কাটতে বের হন তিনি।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে পুটিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দনগর গ্রামের শমসের ডাক্তারের বাড়ির পাশের একটি জমিতে ঘাস কাটার অবস্থায় সুমনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার হাতে ছিল ঘাস কাটার কাচি।
পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘাস কাটার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
সুমনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তার ছোট ছোট চার সন্তান। যে বাবা প্রতিদিন তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে জীবিকার সন্ধানে বের হতেন, সেই বাবাই আর ঘরে ফিরবেন না—এ বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
স্থানীয়রা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সুমনের স্ত্রী ও চার সন্তান এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। তাই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও হৃদয়বান মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সুমনের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে, সেটিই হতে পারে শোকাহত পরিবারটির প্রতি একটি বড় মানবিক সহায়তা।









