ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নেশন্স লিগে স্পেনের শুভসূচনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও নেশনস লিগে হারের স্বাদ পেয়েছে ইংল্যান্ড। ওয়েম্বলিতে ৩-২ গোলে হেরেছে থমাস টুখেলের দল। শুরুতেই পিছিয়ে পড়েও প্রথমার্ধে দুই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে জয় তুলে নেয় স্পেন। এই জয়ে টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের দুই মিনিট না পেরোতেই এগিয়ে যায় স্পেন। মার্ক গেহির ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পেয়ে যান লামিনে ইয়ামাল। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ডকে সহজেই পরাস্ত করেন বার্সেলোনার এই তারকা।
এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ফেরান তোরেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। পরে ট্র্যাফোর্ডকে পরীক্ষায় ফেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি স্পেন।
তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। জুড বেলিংহামের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ের পর স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন গর্ডন।
এর চার মিনিট পর এগিয়েও যায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের হেড মার্ক কুকুরেয়ায় লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর বড় সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। ভিএআর পর্যালোচনার পর বেলিংহামকে ফাউল করার ঘটনায় ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। কিন্তু ৫৫ মিনিটে স্পটকিক নিতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন কেইন। তার শট বারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার সময় দুইবার বলে স্পর্শ করায় ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।
এই সুযোগ হাতছাড়া করার পরই আবার ম্যাচে ফেরে স্পেন। ৬০ মিনিটে নিকো ও’রাইলির ভুলে বল হারায় ইংল্যান্ড। সেই সুযোগে বদলি খেলোয়াড় অ্যালেক্স বায়েনা দূর থেকে নিচু শটে ট্র্যাফোর্ডকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। ৭৪ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। নিখুঁত আক্রমণ শেষ করেন ট্র্যাফোর্ডের ওপর দিয়ে চিপ করে। ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলও করেছিলেন তিনি।
শেষ দিকে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি ইংল্যান্ড। ফলে ঘরের মাঠে ৩-২ গোলের হার নিয়ে নেশনস লিগ অভিযান শুরু করতে হয়েছে তাদের।
হারের পেছনে ইংল্যান্ডের ব্যক্তিগত ভুলগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে। গেহির ভুলে শুরুতেই গোল হজমের পর কেইনের পেনাল্টি মিস এবং ও’রাইলির বল হারানো—প্রতিটি ভুলেরই শাস্তি দিয়েছে স্পেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতো দলের বিপক্ষে এমন ভুলের সুযোগ পাওয়া কঠিন।
ইংল্যান্ডের হয়ে অবশ্য উজ্জ্বল ছিলেন গর্ডন। আক্রমণে তার গতি ও আত্মবিশ্বাস স্পেনের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলেছে। বেলিংহামও ছিলেন কার্যকর। গোলরক্ষক ট্র্যাফোর্ডও প্রথমার্ধে তোরেসের একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। জর্ডান পিকফোর্ড ফিরলে প্রথম একাদশে জায়গা ধরে রাখতে তাকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে হতে পারে।
ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচ মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। একই সময়ে স্পেন মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।









