ফিফার সদস্য দেশগুলোকে আরও অর্থ দেওয়ার ইঙ্গিত ইনফান্তিনোর

ফিফার সদস্য দেশগুলোকে আরও অর্থ দেওয়ার ইঙ্গিত ইনফান্তিনোর। সংস্থার হাতে থাকা প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন পাউন্ডের রিজার্ভ থেকে বাড়তি অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় আসছে।

ফিফার সদস্য দেশগুলোকে সংস্থার হাতে থাকা অর্থ থেকে আরও বেশি অর্থ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার আনুমানিক ৪.৪ বিলিয়ন পাউন্ড নগদ রিজার্ভ থেকে কতটা অর্থ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিতরণ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনার পথ খুলে দিয়েছেন তিনি।

বিবিসি স্পোর্টের দেখা একটি চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেছেন, দায়িত্বশীলভাবে যতটা বাড়তি অর্থ দেওয়া সম্ভব, তিনি তার সর্বোচ্চ পরিমাণ দেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করবেন। সোমবার ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ফিফা সভাপতি।

ফিফার সদস্য সংখ্যা ২১১। তাদের প্রত্যেককে সংস্থার রিজার্ভ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার দাবি তুলেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফ। এই প্রস্তাব আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে বিবেচনা করা হবে।

তবে প্রত্যেক সদস্যকে ঠিক কত অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করতে চাননি ইনফান্তিনো। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমি অর্থের পরিমাণ নিয়ে আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাই না। একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক আলোচনা শুরু করতে পারে, কিন্তু বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণের পুরো বিষয়টি শুধু একটি অঙ্ক দিয়ে শেষ করা যায় না।”

ফিফার অর্থ বিতরণ নিয়ে নতুন আলোচনা এমন সময়ে শুরু হয়েছে, যখন ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা নিয়ে বাড়তি চাপের মুখে রয়েছেন। ওই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব ছিল।

পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়। এ নিয়ে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও ওঠে।

সদস্য দেশগুলোর জন্য বাড়তি অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেও নিজের সেই বাতিল হওয়া পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থানও আবার ব্যাখ্যা করেছেন ইনফান্তিনো। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা।

“সম্প্রতি যে বাণিজ্যিক প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল এবং পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেটির উদ্দেশ্য ছিল ফিফাকে ফুটবলে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া,” চিঠিতে লিখেছেন তিনি।

এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিও জোরালো হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ারম্যান এবং ফিফার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেবি হিউইট ইনফান্তিনোর কাছে ওই পরিকল্পনা-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে এফএফই নিয়ে স্বাধীন তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ফিফার নেতৃত্বে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে তাঁর। ২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। এরপর ২০১৯ ও ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি।

আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে বিকল্প প্রার্থী খুঁজে বের করার জন্য তাঁর বিরোধীদের হাতে রয়েছে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময়। ফলে সদস্য দেশগুলোকে বাড়তি অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব, এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক এবং আসন্ন নির্বাচন—সব মিলিয়ে ফিফার ভেতরে অর্থ ও প্রশাসনিক নীতিকে ঘিরে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ