১০ জনের চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম জয়। উয়েফা নেশনস লিগে প্রথম জয়ের দেখা পেল ইংল্যান্ড। প্রাগে ১০ জনের চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-০ গোলে হারিয়েছে থমাস টুখেলের দল।
ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরেছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রাগে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রতিরোধ খুব বেশি সময় টেকেনি। ম্যাচের ২৫ মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্বাগতিক দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পাভেল শুলচ। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ওপর বিপজ্জনক ফাউলের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে দুর্দান্ত ক্রস করেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড। তাঁর নিখুঁত বল থেকে হেডে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন।
২০২৪ সালের অক্টোবরের পর ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। অন্যদিকে গর্ডনও স্পেনের বিপক্ষে আগের ম্যাচের মতোই ছিলেন দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। নিউক্যাসলের সাবেক সতীর্থ লুইস হলের সঙ্গে ইংল্যান্ডের বাঁ প্রান্তে তাঁর বোঝাপড়াও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। প্রথমার্ধে মর্গান রজার্সের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে হলের ক্রস নিজেদের পোস্টে ঠেলে দেন চেক অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি। তবে গোলের ব্যবধান বাড়াতে বেশি সময় লাগেনি ইংল্যান্ডের।
৬৯ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। চেক ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে বাঁ পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে এটি কেইনের ১২৩ ম্যাচে ৮৭তম গোল।
টুখেলকে বার্তা দিলেন দুই ফুলব্যাক
গত গ্রীষ্মের বিশ্বকাপের দল থেকে আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ও লুইস হলকে বাদ দিয়েছিলেন টুখেল। প্রাগে দুজনকেই শুরুর একাদশে রেখে বড় সুযোগ দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড কোচ।
টুখেল দায়িত্ব নেওয়ার পর আলেকজান্ডার-আর্নল্ড নিয়মিত জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী কোচ লি কার্সলির অধীনে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁ প্রান্তে খেলাই ছিল তাঁর সর্বশেষ শুরুর একাদশে থাকা।
হলও গ্রীষ্মে প্রথম পছন্দের বাঁ-ব্যাকের জায়গা হারান নিকো ও’রাইলির কাছে। পরে ম্যানচেস্টার সিটির এই খেলোয়াড় চোটে ছিটকে গেলে প্রাগের ম্যাচে সুযোগ পান হল।
দুজনই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন। আলেকজান্ডার-আর্নল্ড গর্ডনের গোলের জন্য দুর্দান্ত ক্রস দিয়েছেন। হল রক্ষণে ছিলেন দৃঢ়। গর্ডনের সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ও ছিল স্বাভাবিক ও কার্যকর।
চেক প্রজাতন্ত্র ১০ জনে পরিণত হওয়ার পর ইংল্যান্ডের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। শেষ দিকে টুখেল ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক করান বোর্নমাউথের মিডফিল্ডার অ্যালেক্স স্কটকে। মাঠে নেমেই দ্রুতগতির আক্রমণে গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন তিনি।
এই জয়ে নেশনস লিগে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড। শনিবার রিয়েকায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচ খেলবে তারা।








